মাটি, বাঁশ, কাঠ ও সুতা দিয়ে তৈরি আমাদের লোকশিল্প ও কুটির শিল্প বাংলাদেশের হাজার বছরের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক পরম সম্পদ। বিশেষ করে মৃৎশিল্প বা মাটির তৈরি হাড়ি-পাতিল, পুতুল, টেরাকোটা এবং শৌখিন সামগ্রী আমাদের গ্রামবাংলার রূপকে বিশ্বের দরবারে ফুটিয়ে তুলেছিল। তবে প্লাস্টিক, অ্যালুমিনিয়াম এবং আধুনিক প্রযুক্তির সস্তা পণ্যের দাপটে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পগুলো আজ বিলুপ্তির মুখে।
কুমারপাড়ার শত শত পরিবার যারা বংশানুক্রমে মৃৎশিল্পের সাথে জড়িত ছিল, তারা এখন জীবিকার তাগিদে অন্য পেশায় চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে। কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি, সঠিক রূপায়ণ ও নকশার আধুনিকায়নের অভাব এবং উপযুক্ত বিপণন ব্যবস্থার অনুপস্থিতি এই ধ্বংসের প্রধান কারণ।
এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং লাভজনক করতে হলে এর 'আধুনিকায়ন' এবং 'ফিউশন' ঘটানো অপরিহার্য। মাটির জিনিসপত্রকে কেবল প্রথাগত ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আধুনিক বাসাবাড়ির ইন্টেরিয়র ডিজাইন, শৌখিন শোপিস, এবং পরিবেশবান্ধব ক্যাফে-রেস্তোরাঁর অলংকরণে ব্যবহার বাড়াতে হবে।
দ্বিতীয়ত, ই-কমার্স এবং অনলাইনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের দেশীয় কুটির শিল্পের প্রচার ঘটাতে হবে। অনেক বিদেশী ক্রেতা হাতে তৈরি হস্তশিল্প ও মৃৎশিল্প অত্যন্ত চড়া দামে কিনে থাকেন। তাদের কাছে পৌঁছাতে ডিজিটাল মার্কেটিং সহায়তা প্রয়োজন।
সরকার ও বেসরকারি সংস্থাকে এগিয়ে এসে ঐতিহ্যবাহী শিল্পীদের সহজ শর্তে ঋণ, কাঁচামালের সহজলভ্যতা এবং আধুনিক নকশার ওপর প্রশিক্ষণ প্রদান করা দরকার। আমাদের লোক ঐতিহ্য রক্ষা করা কেবল অর্থনৈতিক বিষয় নয়, এটি আমাদের জাতীয় পরিচয় ধরে রাখার লড়াই।