বাংলাদেশের অর্থনীতি ও ঐতিহ্যের সাথে অতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে চা শিল্প। 'দুটি পাতা একটি কুঁড়ির দেশ' হিসেবে খ্যাত আমাদের সিলেট অঞ্চলে চমৎকার চা উৎপন্ন হয়। ১৮৫৪ সালে সিলেটের মালনীছড়া চা বাগানে প্রথম বাণিজ্যিকভাবে চা চাষ শুরু হয়েছিল, যা পরবর্তীতে দেশের অন্যতম প্রধান ক্যাশ ক্রপ বা অর্থকরী ফসলে পরিণত হয়।
বর্তমানে বাংলাদেশে ১৬৭টিরও বেশি নিবন্ধিত চা বাগান রয়েছে, যার বেশিরভাগই সিলেট, মৌলভীবাজার, হাবীবগঞ্জ এবং চট্টগ্রাম জেলায় অবস্থিত। সম্প্রতি দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে—যেমন পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়ে সমতলের চা চাষে দারুণ সাফল্য অর্জিত হয়েছে, যা চা উৎপাদনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
বাংলাদেশের উৎপাদিত চা ব্ল্যাক টি, গ্রীন টি এবং স্পেশাল টি হিসেবে পরিচিত। অভ্যন্তরীণ বিশাল চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি আমাদের চা বিশ্বের বহু দেশে রফতানি করা হয়। এই শিল্পে লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত, যাদের একটি বড় অংশই প্রান্তিক নারী শ্রমিক।
তবে বিশ্ব বাজারের তীব্র প্রতিযোগিতা, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অনিয়মিত বৃষ্টিপাত চা খাতের জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এছাড়া চা শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং মজুরি বৃদ্ধি করাও একটি মানবিক তাগিদ।
চা শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করতে নতুন উচ্চ ফলনশীল জাতের চায়ের উদ্ভাবন, প্রক্রিয়াজাতকরণের আধুনিকায়ন এবং প্যাকেজিংয়ে বৈচিত্র্য আনা প্রয়োজন। 'টি ট্যুরিজম' বা চা বাগান কেন্দ্রিক পর্যটনের বিকাশ ঘটাতে পারলে এ খাত থেকে আরও বাড়তি বৈদেশিক মুদ্রা ও রাজস্ব অর্জন করা সম্ভব।