'স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল'—এই চিরায়ত প্রবাদটি সব যুগের জন্যই সত্য। আধুনিক নগরায়ণ, যান্ত্রিক জীবনযাত্রা এবং ফাস্টফুডের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তির কারণে মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে। একটি দীর্ঘ, রোগমুক্ত ও আনন্দময় জীবন পেতে সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং নিয়মিত কায়িক পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই।
সুষম খাদ্য বলতে এমন আহারকে বোঝায় যাতে শরীরের প্রয়োজনীয় সকল পুষ্টি উপাদান—যেমন শর্করা, প্রোটিন, স্নেহ পদার্থ, ভিটামিন, খনিজ এবং পানি সঠিক অনুপাতে বিদ্যমান থাকে। আমাদের দৈনন্দিন খাবারে শাকসবজি, ফলমূল, আঁশযুক্ত খাবার এবং পর্যাপ্ত পানি রাখা উচিত। প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত চিনি, অতিরিক্ত লবণ এবং কোল্ড ড্রিঙ্কস এড়িয়ে চলা প্রয়োজন।
কায়িক পরিশ্রম বা শারীরিক ব্যায়াম হৃদযন্ত্র ও রক্তের সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা, দৌড়ানো, সাঁতার কাটা বা সাইকেল চালানো উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা (Obesity) এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণ কমিয়ে দেয়। শারীরিক পরিশ্রমের ফলে শরীরে 'এন্ডোরফিন' হরমোন নিঃসৃত হয়, যা মানসিক চাপ কমায় এবং মন ভালো রাখে।
যথাযথ খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক অনুশীলনের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার আরও দুটি স্তম্ভ হলো পর্যাপ্ত ঘুম (৭-৮ ঘণ্টা) এবং মানসিক দুশ্চিন্তামুক্ত থাকা। রাতে দেরিতে ঘুমানো এবং অনিয়মিত জীবনযাপন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দেয়।
স্বাস্থ্য সচেতনতা কোনো সাময়িক বিষয় নয়, এটি একটি জীবনব্যাপী অভ্যাস। ছোটবেলা থেকেই সুষম খাদ্য গ্রহণ ও শারীরিক কর্মকাণ্ডের অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে একটি সুস্থ, কর্মক্ষম ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠন সম্ভব।